শুধু ডায়েট না করে, ব্যায়ম করেও ক্যালরী খরচ করুন

শুধু ডায়েট না করে, ব্যায়ম করেও ক্যালরী খরচ করুন

শুধু ডায়েট করলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, নাকি ব্যায়মও করতে হবে? শরীরচর্চা করলেই ওজন কমবে নাকি ডায়েটও করতে হবে? এমন প্রশ্ন যদি আপনার মনে উদয় হয়, তাহলে লেখাটি আপনার জন্যই। ডায়েট ও শরীরচর্চা উভয়ই সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু এই দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ডায়েট:

১) ডায়েটে কি হয়? – একজন মানুষের তার দেহের গঠন ও কাজের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি খাবার তালিকা দেয়া হয়, অর্থাৎ সে দৈনিক কত ক্যালরি খরচ করে তার উপর নির্ভর করে একটি ডায়েট চার্ট দেয়া হয়। সেই ডায়েট চার্টে তার দৈনিন্দিন চাহিদার চেয়ে কম ক্যালরি সমৃদ্ধ খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এতে করে একজন মানুষের শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট, ক্যালরি, চর্বি ভেঙ্গে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এভাবেই শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ, চর্বি ও ওজন কমে যায়। 

২) ডায়েটের মাধ্যমে- আপনি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন। যেমন- ওজন কমানো, ওজন বাড়ানো, খাবারের গুনগত মান বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।

৩) ডায়েটে- আপনি খাবার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারেন এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি, অন্যান্য ক্যার্বোহাইড্রেট ও অধিক মাত্রায় খাবার পরিহার করতে পারেন।

৪) ডায়েটের মাধ্যমে- উচ্চ-রক্তচাপ, হাই-কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

শরীরের চর্চা: 

১) শরীরচর্চায় কি হয়? – আমাদের শরীর একধরনের কোষ নামক মেশিন দিয়ে তৈরি, পা থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কোটি কোটি সেল বা কোষ দিয়ে তৈরী। কোষকে মেশিনের সাথে তূলনা করার কারন হলো, মেশিনের কাজ যেমন শক্তি উৎপন্ন করা ঠিক তেমনি কোষেরও কাজ শক্তি উৎপন্ন করা। অর্থাৎ শরীরের সব কিছুই যেহেতু কোষ, তাই এই কোষগুলো যদি ভালো থাকে তাহলে আমরা সুস্থ থাকবো, অপরদিকে কোষ গুলো যদি ঠিকমত কাজ না করে বা কোনো সমস্যা হয় তাহলে আমরা অসুস্থ হই। কোষগুলোকে ভালো রাখতে হলে এগুলো সচল রাখতে হবে মেশিনের মত। 

সচল রাখা বলতে বুঝাচ্ছি- ধরেন কেউ শারীরিক পরিশ্রম কম করে, যার দরুন শরীরের বিভিন্ন অংশের কিছু কোষের কাজ না করলেও চলে। উধাহরন- আপনি যদি পরিশ্রম না করেন তাহলে হাত-পায়ের মাসলের অনেক সেল ইনএকটিভ থাকে, ফলশ্রুতিতে হাত পা অনেকের চিকন হয়ে যায়; আবার আপনার ইনসুলিন অত বেশী প্রয়োজন হয় না যার দরুন ইনসুলিনের ফ্যাক্টরি প্যানক্রিয়াসের সব সেলকে কাজ করতে হয়না, যার কারনে প্যানক্রিয়াস ধীরে-ধীরে ইনসুলিন উৎপাদন কমিয়ে দেয়। 

শরীরচর্চা মানে আপনি প্রচুর শক্তি খরচ করছেন। শক্তি উৎপন্ন করতে হলে কোষগুলোকে একটিভ বা সচল থাকতে হয়, কোষ একটিভ থাকলে শরীর সজীবতা ফিরে পায় এবং আমরা সুস্থ থাকি।

২) শরীরচর্চা করে আপনি আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারেন।

৩) শারীরিক কাজের মাধ্যমে আপনি ওজন কমাতে পারেন এবং মেটাবলিজম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

৪) ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্যালরি ব্যবহার করা হয় এবং যা স্বাস্থ্যকর শরীরের গঠনে সাহায্য করে।

ডায়েট ও শরীরচর্চা উভয়ই শরীরের স্বাস্থ্য উন্নত রাখতে সাহায্য করে। শুধু আপনাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য তৈরী করে চলতে পারলেই আমদের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে।

……………………………………………….

ডা. মো. তাসনীম আলম তালহা

বিএএমএস (ঢাবি)

সাবেক শিক্ষক, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

হেল্থ কোচ, হলিস্টিকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, এনসিয়েন্ট ওয়েলনেস বাংলাদেশ

HolistiCare International

No comments yet.

Leave a Comment